research
  • 06 Apr
  • 2020

নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের অঘোষিত লক ডাউন

নারায়ণগঞ্জের প্রশাসনের অঘোষিত লক ডাউন

নারায়ণগঞ্জ সিটি করর্পোরেশন এলাকা, সদর ও ফুতুল্লা উপজেলাকে আজ থেকে জেলাপ্রশাসন অঘোষিত লকডাউন ঘোষণা করেছে। ফলে ৬ এপ্রিল থেকে কেউ অতি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাসা বাড়ি থেকে বের হতে পারবে না।  কেউ অহেতুক বাসা থেকে বের হলে প্রশাসনের কঠোর অ্যাকশনে যাবেন।  ৫ এপ্রিল রোববার রাতে জেলা প্রশাসক জসিমউদ্দিনের সভাপতিত্বে জরুরী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে জেলা পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম, সিভিল সার্জন মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, সেনাবাহিনী ও র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর প্রেক্ষিতে আজ সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর, শিমরাইল ও নারায়ণগঞ্জের শহরে পুলিশ, র‌্যাবের ব্যাপক তৎপরতা দেখা যায়। কোন এলাকা থেকে কেউ বের হবে না প্রশাসনের এমন কঠোর নির্দেশ থাকার স্বত্বেও সিদ্ধিরগঞ্জের ওলিতে গুলিতে লোকজনের চলাচল স্বাভাবিক দেখা যায়। অপরদিকে সকাল থেকে পুলিশ ও র‌্যাব বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেক পোস্ট বসিয়ে নারায়ণগঞ্জে ইনপুট আউটপুট বন্ধ রাখার চেষ্ঠা করছেন।  জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ যাহাতে বের ও ঢুকতে না পারেন তার জন্য র‌্যাবের একাধিক টিম কাজ করতে দেখা যায়।

আজ সোমবার থেকে আদমজী ইপিজেটের পিপিই প্রস্তুত করা ও বিদেশী অর্ডার ছাড়া বাকি সব গার্মেন্ট বন্ধ রয়েছে।  এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করতে দেখা যায়।  এছাড়া অলিগলি বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় এ জনপ্রতিনিধি জানান, আমরা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এলাকার বিভিন্ন ওলিতে গলিতে মাইকিং করে জনসাধারণকে বাসায় থাকার অনুরোধ করছি।  তবে আমাদের এলাকায় সাধারণ লোকের বসবাস করার কারণে এখানকার মানুষ বিভিন্ন কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য বাসায় থাকতে চায় না।  তাছাড়া আমাদের সাধ্যমতে চেষ্ঠা করছি সবার কাছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার জন্য।

র‌্যাব-১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ আলেপ উদ্দিন জানান, ‘এখন থেকে আমরা জিরো টলারেন্স। কোন এলাকা থেকে কেউ বের হতে দেওয়া হবে না। নারায়ণগঞ্জে যাহাতে কোন যানবাহন ইনপুট আউটপুট করতে না পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের ও ঢুকতে পারবে না।  এখন নারায়ণগঞ্জ বেশ গুরুত্বপূর্ণ সে কারণে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।  পরিস্থিতি ভালো না হওয়া পর্যন্ত আমরা কঠোর অবস্থানে থাকবো।’ তিনি আরো জানান, ‘ইতোমধ্যে আমাদের মাইকিং চলছে।  অলিগলি বাশ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত গতকাল নারায়ণগঞ্জে নতুন করে ৬ জন করোনা রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ২ জন।  সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও করোনার ফোকাল পার্সন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, শনিবার ১৪ জন ও এর আগের দিন ১৩ জন সর্বমোট ২৭ জনের নমুনা আমরা সংগ্রহ করেছিলাম। এর মধ্যে ৬ জনের দেহে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।  এর আগে জেলাটিতে নমুনা সংগ্রহের পর ৮ মার্চ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হিসেবে দুজনকে চিহ্নিত করে সরকারের রোগতত্ত¡, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর)। যারা ইতোমধ্যেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। পরে ২৩ মার্চ জেলায় আরো একজন আক্রান্ত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছিলেন জেলা সিভিল সার্জন। পরে তিনিও ১ এপ্রিল সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।  ৩০ মার্চ জেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত হয়ে বন্দরের রসুলবাগ এলাকার মারা যান।  পরে ২ এপ্রিল রাতে এলাকাটি লকডাউন করে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ৪ এপ্রিল জেলায় দ্বিতীয় আরেক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান।